| বঙ্গাব্দ

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ জানালেন ডা. তাসনিম জারা | ঢাকা-৯ নির্বাচন ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-01-2026 ইং
  • 1696143 বার পঠিত
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ জানালেন ডা. তাসনিম জারা | ঢাকা-৯ নির্বাচন ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: ডা. তাসনিম জারা


পুরোনো কাঠামো ভাঙতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি: সংলাপে ডা. তাসনিম জারা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিদ্যমান জবাবদিহিতার ঘাটতি এবং পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আমূল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তাসনিম জারা বলেন, “জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। তারা আর পুরোনো সেই রাজনৈতিক কাঠামো গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। আমাদের বর্তমান ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার জায়গাটি অত্যন্ত দুর্বল। যে ব্যক্তি জবাবদিহি করবেন, দেখা যায় সেই ব্যক্তিই তার নিয়োগকর্তা। এই জটিলতা থেকে উত্তরণ জরুরি।”

এনসিপি ত্যাগ ও ঢাকা-৯ আসনের লড়াই

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হয়ে ঢাকা-৯ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল ডা. তাসনিম জারার। তবে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দল থেকে সরে এসে স্বতন্ত্রভাবে লড়ার ঘোষণা দেন। সংলাপে তিনি স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলমান রাখা এবং যারা ক্ষমতায় থাকবে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যে গত ১০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে তিনি তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন এবং ‘ফুটবল’ প্রতীক বরাদ্দের আবেদন করেছেন।

রাজনৈতিক টাইমলাইন: ১৯০০ থেকে ২০২৬-এর পথপরিক্রমা

বাংলাদেশের রাজনীতি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিবর্তিত হয়েছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ—প্রতিটি বাঁক ছিল মুক্তি ও সংস্কারের লড়াই। ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব প্রমাণ করেছে যে এ দেশের মানুষ বারবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি ইতিহাসের এক অনন্য সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন তারই চূড়ান্ত প্রতিফলন হতে যাচ্ছে। ডা. তাসনিম জারার মতো নতুন প্রজন্মের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, প্রচলিত দলীয় বলয়ের বাইরেও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘাত ও আলোচনা: কে কী বলছেন?

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে:

  • নাহিদ ইসলাম (এনসিপি আহ্বায়ক): “গণভোটে ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে এবং দেশ আবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় ফিরে যাবে।”

  • ডা. মো. রফিকুল ইসলাম (বিএনপি নেতা): “একটি শক্তি এখনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত করছে। গণতন্ত্র এখনো নিরাপদ নয়।”

  • ডা. তাসনিম জারা (১৩ জানুয়ারি ২০২৬): “পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ভাঙতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সংস্কার সম্ভব নয়।”

উপসংহার

ঢাকা-৯ আসনের ভোটারদের কাছে ডা. তাসনিম জারা একজন ‘এলাকার সন্তান’ হিসেবে পরিচিত। খিলগাঁও-সবুজবাগ-মুগদা এলাকার এই লড়াই শুধু একটি আসনের নয়, বরং ২০২৬ সালের নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনই ঠিক করে দেবে বাংলাদেশের আগামী ৫০ বছরের পথরেখা।


তথ্য সূত্র:

১. নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপের কার্যবিবরণী (১৩ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানি প্রতিবেদন (১০ জানুয়ারি ২০২৬)। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যুগান্তর আর্কাইভ (২০২৪-২০২৬ রাজনৈতিক বিবর্তন ও ডা. তাসনিম জারার ফেসবুক বার্তা)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency